আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

জেলা কারাগার পরিদর্শনকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আটক জেলেদের মা ইলিশ রক্ষায় উপদেশমূলক বার্তা দিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শওকত আলী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ শওকত আলী মহোদয় আজ ২৫ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখ দুপুরে রাজবাড়ী জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন। সময়ে সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান, জনাব রুমানা আফরোজ, জেল সুপার জনাব মোঃ আনোয়ারুল করিম এবং জেলার জনাব নুর মোহাম্মদ মৃধা উপস্থিত ছিলেন। জেলা কারাগার পরিদর্শনকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মোবাইল কোর্টে দন্ডপ্রাপ্ত ৪৬৮ জন আটক জেলেদের মা ইলিশ রক্ষায় উপদেশমূলক বার্তা দিলেন সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ শওকত আলী মহোদয়। প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি মোবাইল কোর্টে দন্ডপ্রাপ্ত অবৈধভাবে ইলিশ আহরণকারীদের ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদী হতে মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিশ ৎপাদনে কি সুফল হবে সে বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোকপাত করেন এবং ভবিষ্যতে মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। অন্যথায় আগামীতে ৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সকলকে সতর্ক করেন। সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদেয় তাঁর নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে গত অক্টোবর, ২০১৮ হতে আগামী ২৮ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকতে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উক্ত সময়ের জন্য তালিকাভূক্ত জেলের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। বছরের এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকলে এর প্রথম সুফল জেলে সম্প্রদায় পাবেন মর্মে জেলা প্রশাসক মহোদয় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রজনন মৌসুমে একটি ইলিশ মাছ সমুদ্র হতে নদীতে এসে কি পরিমাণ ডিম ছাড়ে তার বর্ণনা দিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় বলেন, সুষ্ঠভাবে ডিম ছাড়তে পারলে যে ইলিশ ৎপাদন হবে তা থেকে দেশের চাহিদা পূরণ করে আমরা বিদেশে ইলিশ রপ্তানী করতে পারবো। সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বক্তব্য শুনে কারাগারে আটক অবৈধভাবে ইলিশ আহরণকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং তারা এখন বুঝতে পারছেন যে, মা ইলিশ সঠিকভাবে সুরক্ষা করতে পারলে বর্ধিত হারে ইলিশ ৎপাদনের সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবেন। স্মরণ করা যেতে পারে, চলমান অভিযানে গত অক্টোবর, ২০১৮ হতে পর্যন্ত মোবাইল কোর্টে ৪৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ১৯ জনকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে পর্যন্ত ২৩.৭৬৫ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। যার মূল্য আনুমানিক ৪৭৫. লক্ষ টাকা। আটককৃত ইলিশের পরিমাণ .৯৪৪ মেট্রিক টন যা বিভিন্ন এতিমখানা মাদ্রাসার এতিমদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয় কারাগারে পৌছালে কারারক্ষীদের সুসজ্জিত চৌকষ দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। গার্ড অব অনার গ্রহণের পর সম্মানিত জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় প্রধান ফটকে রক্ষিত কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশের এন্ট্রি রেজিস্টারে কারাভ্যন্তরে প্রবেশের সময় লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষর প্রদান করেন। কারাগারে প্রবেশের প্রধান ফটক অতিক্রমকালে সর্বপ্রধান কারারক্ষী তাঁকে কারাভ্যন্তরে অন্তরীণ কারাবন্দিদের পরিসংখ্যান মৌখিকভাবে অবহিত করেন এবং কারাগার তাঁর পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত আছে মর্মে অবহিত করেন। অতঃপর সম্মানিত জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ওয়ার্ড, সেল, রন্ধনশালা, খাদ্য গুদাম, হাসপাতাল/ মেডিক্যাল ওয়ার্ড এবং কারাভ্যন্তর চত্বর ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনি কারাবন্দিতে কেস হিস্ট্রি টিকেট পরীক্ষা করেন এবং তাদের বিভিন্ন আবেদন-নিবেদন শ্রবণ করেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বিশেষ করে অবৈধভাবে মা ইলিশ আহরণকারীদের তিনি বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদানসহ ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন। কারাগার পরিদর্শনের প্রাক্কালে তিনি মাদকসেবী মাদকব্যবসায় আটক কারাবন্দিদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মটিভেশনাল বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদেরকে কারাগারথেকে মুক্ত হবার পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার জন্য পরামর্শ দেন। একই সাথে অন্যান্য কারাবন্দিদেরকেও মুক্ত হবার পর আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করেন। কারাগার পরিদর্শনের প্রাক্কালে তিনি কারাভ্যন্তরের খালি জায়গায় সবজি শাক চাষের অবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং ৎপাদিত সবজি শাক কারাবন্দিদের খাবার হিসেবে পরিবেশনের জন্য জেল সুপারকে নির্দেশনা প্রদান করেন। কারাগারের অভ্যন্তরের খালি জায়গায় সবজি শাক চাষের কার্যক্রম গ্রহণে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেল সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। জেলা কারাগারের অভ্যন্তর ভাগ পরিদর্শন শেষে সম্মানিত জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় কারাগারের বিভিন্ন রেজিস্টারাদি পরীক্ষা করেন এবং কারাবন্দিদের অবস্থা, কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা, কর্মকর্তা কর্মচারীদের জনবল পরিস্থিতি, বেসরকারি ভিজিটরদের ভিজিট কার্যক্রম, অবকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য, কারাগারের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, কারাবন্দিদের ধর্মীয় শিক্ষা, বিনোদনের ব্যবস্থাসহ সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে জেল সুপার এবং জেলারের সাথে আলোচনা করেন এবং পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে কারাগার হতে নিজ অফিসে প্রত্যাবর্তন করেন

No comments: