আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

রাজবাড়ীতে চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে


রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ীতে চাঁদাবাজির মামলায়   মঙ্গলবার দুপুরে দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
 রাজবাড়ীর দুই নম্বর আমলী আদালতের বিচারক আবু হাসান খাইরুল্লাহ এই আদেশ দেন। দুই সাংবাদিকেরা হলো মাসুদ রানা বাদশা ও শামীম রেজা।
৮ জুলাই পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চরদুর্লভদিয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার তোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একলাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামী হলো এশিয়ান টেলিভিশনের রাজবাড়ী প্রতিনিধি ও দৈনিক ইত্তেফাক প্রত্রিকার পাংশা প্রতিনিধি এস এম রাসেল কবির। মামলার দুই ও তিন নম্বর আসামী হলো মাসুদ রানা বাদশা ও শামীম রেজা। বাদশা দৈনিক শিকল প্রত্রিকার রাজবাড়ী প্রতিনিধি ও শামীম ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের রাজবাড়ী প্রতিনিধি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার পাংশা উপজেলা প্রতিনিধি।
এজাহার সুত্রে জানাযায়,বাদী ও তাঁর ব্যবসায়ীক পার্টনার পাংশা উপজেলার চরদুর্লভদিয়া গ্রামের চাঁদের হাট বাজার থেকে খয়ের মেম্বারের বাড়ির পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কাজ করছিলেন। আসামীরা একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নতুবা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ফোনে নানা প্রকার হুমকি দেয়।
২৫ জুন বিকেলে বাদী তাঁর কাজের সাইডে যান শ্রমিকদের কাজের মুজুরী দিতে। এসময় তিন আসামী তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় তাঁরা একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এক নম্বর আসামী তাকে ঘুষি মেরে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। দুই নম্বর আসামী বাদশা পিস্তল বের করে বুকের ওপর ধরে খুন করার হুমকি দেয়। এছাড়া তিন নম্বর আসামী শামীম গলা চেপে ধরে শ^াসরোধ করার চেষ্টা করে। রাসেল বাদীর পকেটে থাকা দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। চিৎকার শুনে এসময় অনেকে ঘটনাস্থলে আসলেও বাদীকে রক্ষার সাহস পায় নাই। টাকা নেওয়ার পরে আসামীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় এবং আরো ৯০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
মামলার এক নম্বর আসামী ও শামীম রেজা চাচা এস এম রাসেল কবির বলেন, পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ ও তাঁর ভাই যশাই ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন করি। বাদশা ও শামীম ও প্রতিবেদন করে। এতে করে চেয়ারম্যানরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান ও তাদের অনুগতরা চারটি ও শামীমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে। এর আগে শামীম কে পাংশা শহর থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মারধর  করে। এ ঘটনায় থানায় সাধারন  ডায়েরী  করা হয়। গত বুধবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। মঙ্গলবার আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালতের বিচারক প্রথম আসামীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করলেও  অপর দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



No comments: