আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিনের আলোতেও চলন্ত ফেরিতে সক্রিয় জুয়ারীরা


আজু শিকদার, রাজবাড়ী থেকে
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের চলন্ত ফেরিতে জুয়া খেলার ফাঁদে ফেলে জুয়ারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান সামগ্রী। এতোদিন তারা শুধু রাতের বেলায় তৎপর থাকলেও এখন দিনের আলোতেও তৎপর হয়ে উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ফেরিতে দেখা যায়, ফেরিটি ঘাট থেকে কিছু দুর যাওয়ার পর ফেরির নীচে এক কোণে একজন জুয়ারী দুইটি কালো ও একটি লাল রঙের তাস নিয়ে বসে গেছে। তাকে ঘিরে সংঘবদ্ধ একটি দল নিজেরাই খেলায় অংশ নিয়ে ২-৩ গুণ করে টাকা জিতে নিচ্ছে। এই দেখে উৎসুক কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে গিয়ে ওই খেলায় অংশ নেয় এবং প্রথম দিকে কিছু জিতলেও শেষ পর্যন্ত অনেক টাকা হেরে যায়।
হেরে যাওয়া এক যাত্রী ঝিনাইদহের সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি অন্যদের দেখা-দেখি তিন তাসের খেলায় অংশ নিয়ে এক হাজার টাকা হেরেছেন। পরে তাদের চালাকী বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে এসেছি।
ওই ফেরির যাত্রী চুয়াডাঙ্গার মো. শুভ মিয়া, গোয়ালন্দের ব্যবসায়ী মিলন মুন্সী ও আলমগীর হোসেন জানান, তারা প্রায়ই ফেরি যোগে ঢাকায় যাতায়াত করেন। এতোদিন রাতে জুয়ারীদের দেখলেও কিছুদিন ধরে দেখছি এরা দিনের বেলাও জুয়ার আসর বসাচ্ছে। এগুলো কি পুলিশ ও ফেরি কর্তৃপক্ষ জানে না, নাকি জেনেও চুপ রয়েছে?
স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটের সংঘবদ্ধ একটি জুয়ারী চক্র সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করে ফেরিতে জুয়ার আসর বসাচ্ছে। তারা যাত্রীদের প্রলোভনে ফেলে এবং এক পর্যায়ে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। জুয়ারীরা ট্রলার যোগে ফেরিতে ওঠে এবং ফেরিটি ঘাটে পৌছানোর আগেই কাজ সেরে ট্রলার যোগে সরে পড়ে।
ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মাস্টার ফারুক আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জুয়ারী চক্র আবারো ফেরিতে উঠে জুয়া খেলার চেষ্টা করলে আমি উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে এবং লোকজনকে চিৎকার করে ছত্রভঙ্গ করে দেই। ওই জুয়ারী চক্রের সাথে ফেরি কর্তৃপক্ষের কেউ জড়িত নয়। তারা যখন যে ফেরিতে সুযোগ পায় সেটাতে উঠেই স্বল্প সময়ের মধ্যে অপকর্ম করে আবার নেমে যায়।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, ফেরিতে জুয়ারুদের ফাঁদে পড়ে আমাদের বহু যাত্রী টাকা-পয়সা খোয়াচ্ছে এবং তাদের হাতে লাঞ্চিত হচ্ছে। ফেরি কর্তৃপক্ষের সুনামও ক্ষুন্ন হচ্ছে। জুয়ারুদের প্রতিহতের জন্য আমরা ইতিপূর্বে একাধিকবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার ও দৌলতদিয়া নৌ-ফাঁড়িকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছি।
দৌলতদিয়া নৌ-ফাঁড়ির ওসি মো. লাবু মিয়া বলেন, জুয়ারুদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে জুয়ারুদের ব্যাপারে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চায় না। তিনি এ বিষয়ে ফেরি কর্তৃপক্ষসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

No comments: