আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

সাতক্ষীরায় বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন দেশে ৪ কোটি দরিদ্র, রক্তস্বল্পতায় ৪৪ শতাংশ নারী


মাধব দত্ত,সাতক্ষীরা।বাংলাদেশে খাদ্য সংকট নেই। এখন সচরাচর না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও  ঘটে না। তবে পুষ্টিমান খাদ্যের অভাব এবং অধিক মাত্রায়  ভেজাল ও কীটনাশকযুক্ত খাদ্য খেয়ে আমরা রোগগ্রস্থ হয়ে পড়ছি। এতে শিশুরা জন্মগতভাবে  নানা ব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে । মায়েরা ভুগছে রক্ত স্বল্পতায়। প্রসবকালিন মাতৃমৃত্যুর  অন্যতম কারণও  হয়ে দাঁড়িয়েছে পুষ্টিহীন খাদ্য।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। তারা বলেন সমাজে সচেতনতার অভাব এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইনের বাস্তবায়ন  না থাকায় বিপুল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরন পেতে হলে দেশে খাদ্য নীতির পাশাপাশি যুগোপযোগী খাদ্য আইন প্রনয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। সবার মাঝে খাদ্যের বিতরনও  নিশ্চিত হওয়া দরকার। এ প্রসঙ্গে তারা সমাজ থেকে  দারিদ্য্র বিমোচনের কথাও তুলে ধরেন।
সাতক্ষীরার চুপড়িয়া মহিলা সমিতির সভাপতি মরিয়ম মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রফেসর আবদুল হামিদ, অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, অধ্যক্ষ মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, সাতক্ষীরা পৌর সভার প্যানেল মেয়র ফারাহ দীবা খান সাথী, পৌর কাউন্সিলর সফিকুদ্দৌলা সাগর, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম , টিআইবির আবদুল আহাদ, বেসরকারি সংস্থা স্বদেশ এর মাধব চন্দ্র দত্ত, আবু জাফর সিদ্দিকী ও লুইস রানা গাইন প্রমূখ।
তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে তারা বলেন দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে। অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও প্রায় দুই কোটি। সব মিলিয়ে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র উল্লেখ করে তারা বলেন এসব মানুষ পুষ্টিযুক্ত খাদ্য বঞ্চিত। তারা বলেন প্রতিদিন প্রতিটি  মানুষের প্রয়োজন ২১২২ কিলো ক্যালরি সুষম খাদ্য।  পরিসংখ্যান তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন দেশের ৪৪ শতাংশ নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। ৩৬.১ শতাংশ শিশু কম উচ্চতা সম্পন্ন বা খর্বকায় হয়ে পড়েছে। ৩২.৬ শতাংশ শিশু কম ওজন সম্পন্ন। এ ছাড়া ১৪.৩ শতাংশ শিশু কৃশকায় হয়ে পড়েছে। পুষ্টিযুক্ত খাবার খেলে তারা এ অবস্থার শিকার হতেন না বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন কীটনাশকযুক্ত শাক সবজি খেয়ে আমরা আন্ত্রিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। ভেজাল গুড়ো দুধ, ভেজাল ভোজ্য তেল এমনকি মাছে ও ফলে ব্যবহৃত বিভিন্ন কেমিক্যাল বিশেষ করে ফরমালিন জাতীয় পদার্থ  ব্যবহার করে আমরা নানা রোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছি বলে উল্লেখ করেন তারা।
খাদ্য অধিকার আমাদের মৌলিক চাহিদার অন্যতম জানিয়ে বক্তারা বলেন খাদ্য অধিকার আইন প্রনয়ন করা হলে এই সংকট থেকে উত্তরন ঘটবে ।

No comments: