আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

বোয়ালমারীর ফল ব্যবসায়ী শাকিল মৃধা হত্যার রহস্য উদঘাটন বালিয়াকান্দিতে ডেকে এনে শিপন ধরে পা আর বক্কার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে


সোহেল রানা ঃ বাড়ীতে অনুউপস্থিতির কারণে স্ত্রীর সাথে বাড়ীতে প্রায়ই গল্প করে ফল ব্যবসায়ী শাকিল মৃধা। হঠাৎ দুপুরে শাকিলকে তার স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে বক্কার শেখ। এ অবস্থায় বক্কার পরিকল্পনা করে শিপন শেখের সাথে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলকে দিয়ে আজিজার শেখের মোটর সাইকেল ভাড়া করান বক্কার শেখ। কিছুদুর আসার পরই দেখা হয় শিপন শেখের সাথে। সেও মোটর সাইকেলে ওঠে। ৩জন মিলে আসে বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি মোড়ে। সেখানে তারা ৩জন চা পান করে। এদিকে শিপন পরিকল্পনা আটে তাকে শেষ করে মোটর সাইকেলটি হাতিয়ে নিবে। এ অনুযায়ী বোয়ালমারী থেকেই ঘুমের ট্যাবলেট ক্রয় করে। ঢোলজানির দোকান ২টি জুস ক্রয় করে। একটি জুসের মধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট মিশায়। তার পর চলে যায় পোটরা গ্রামে। সেখানে প্রসাব করবে বলে বক্কার প্রকাশ করে। ৩জন নামার পর ওই দু,টি জুসের মধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট মেশানোটি শাকিলকে খাওয়ায়। অন্যটি তারা দু,জন জুস পান করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলকে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে শাকিলের লুঙ্গি ও পায়ের সেন্ডেল খুলে যায়। পরে শিপন শাকিলের দু,পা ধরে রাখে আর বক্কার গামছা গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে শাকিলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। শাকিলের লাশটি পানিতে মাথা চুবিয়ে রেখে তারা লাশটি ফেলে রেখে প্লাটিনা মোটর সাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়। গত ২৮ আগষ্ট সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা গ্রামের সুভাষ মন্ডলের ধানক্ষেতে পাশ থেকে শাকিল মৃধার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়। লাশের কোন পরিচয় না পাওয়ায় আঞ্জুমানই মফিদুলে দাফন করে। এব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বালিয়াকান্দি থানার এস,আই কায়সার হামিদ তদন্ত শুরু করেন। পরে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদার নির্দেশনায় থানার এস,আই অঙ্কুর কুমার ভট্রাচার্য্য, এস,আই দিপন কুমার মন্ডল ও এস,আই হিরণ কুমার বিশ্বাসের সহযোগিতায় ২ মাস পর মামলার ২ আসামী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের আকমল শেখের ছেলে বক্কার শেখ (২৫) ও বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অভয়নগর গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে শিপন শেখ (২৫) কে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার রাজবাড়ী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু হাসান খায়রুল্লাহের নিকট ১৬৪ ধারায় হত্যার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এ লোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এস,আই কায়সার হামিদ আরো জানান, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের আবজাল মৃধার ছেলে ফল ব্যবসায়ী শাকিল মৃধা (১৬) কে একই উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ইসাখালী গ্রামের মালেক শেখের ছেলে আজিজার শেখের প্লাটিনা মোটর সাইকেলটি ভাড়া করে। পরে বক্কার শেখ ও শিপন শেখ পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। মোটর সাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

No comments: