আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

পদ্মা-যমুনায় শতশত জেলে নৌকা, তবে ইলিশের দেখা নেই


গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত সোমবার মধ্য রাত থেকে একযোগে পদ্মা-যমুনা নদীতে ইলিশ শিকারে নামে শত শত জেলে। কিন্তু কাঙ্খিত ইলিশের দেখা না পেয়ে সবাই হতাশ। ইলিশ না পেয়ে পন্ড শ্রমের পাশাপাশি লোকসানের মুখেও পড়েছেন জেলেরা।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া থেকে দেবগ্রাম পর্যন্ত পদ্মা-যমুনা নদীর প্রায় ১০ কিমি জুড়ে শতশত জেলে নৌকা ও অসংখ্য জেলে ইলিশ শিকারের জন্য নদীর বুক চষে বেড়াচ্ছেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট এলাকায় অসংখ্য নৌকা ও জালের কারণে লঞ্চ-ফেরি চলাচলেই বিঘœ ঘটছে। গত বছর অভিযান শেষে পরদিন থেকে অন্তত এক সপ্তাহ এ এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশে ছয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা। দামও ছিল একেবারে কম। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে এবারো জেলেরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করে। কিন্তু এবার তারা হতাশ হয়েছে।
দৌলতদিয়া ৬নং ফেরিঘাট এলাকায় আলাপকালে পাবনার ঢালার চর এলাকা থেকে আসা জেলে মমিন শেখ জানান, তারা ৩জন একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও জাল নিয়ে এসে ভোররাত থেকে জাল ফেলে যাচ্ছেন। কিন্তু বেলা দেড়টা নাগাদ মাত্র ২ কেজির মতো ছোট সাইজের ইলিশ পেয়েছি। যে কারণে আর জাল না ফেলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা জেলে কাউয়ুম মিয়া জানান, দুপুর পর্যন্ত জাল ফেলে মাত্র ২টি জাটকা ইলিশ পেয়েছি। যে কারণে তারা খুবই হতাশ। জাল তৈরীতে তার ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।
গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া বেপারী পাড়ার মৌসুমী মৎস্য শিকারী রাসেল শেখ জানান, তারা ৯ জন মিলে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে জাল কিনে নদীতে এসেছিলেন। সারাদিন চেষ্টা করে ৫ কেজি ইলিশও পাননি। অনেক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
নদীতে ইলিশ কিনতে আসা বেপারী জব্বার মিয়া, খবির খান, শাহজাহান সরদারসহ কয়েকজন জানান, গত বছরের এই দিনে নদীতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে ইলিশের অস্থায়ী হাটে শতশত মণ ইলিশ ওঠে বিক্রির জন্য। স্থানীয়সহ দুর-দুরান্ত থেকে অনেক বেপারী ও খরিদ্দার এসে ইলিশ কিনে নিয়ে যায়। গ্রাম-গঞ্জে ফেরি করে স্বল্প মুল্যে বিক্রি হয় ইলিশ। কিন্তু এবার তেমনটি নেই। আমরা সবাই হতাশ।
স্থানীয় অনেকেই জানান, গত বছর অভিযানের পর তারা দৌলতদিয়া থেকে ২-৩ শ টাকা কেজি দরে ভাল সাইজের অনেকগুলো ইলিশ কিনেছিলেন। এবার তা নেই। অল্প পরিমাণে যা মিলছে ৫/৬শ টাকা কেজি দাম চাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য অফিসার মজিনুর রহমান জানান, ভাটিতে অসংখ্য ডুবোচর, পানির গভীরতা কম ও প্রচুর পরিমাণে শিকারের কারণে এ অঞ্চল পর্যন্ত খুব একটা ইলিশ এ বছর আসতে পারে নি। গত বছর এ সময় নি¤œ চাপের কারণে ভাটি অঞ্চলে জেলেরা কয়েকদিন নদীতে নামতে পারেনি। যে কারণে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ রাজবাড়ী এলাকায় এসে ধরা পড়ে।

No comments: