আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

রাজবাড়ী-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন চান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলকে গতিশীল করতে নেওয়া হবে সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত নুরে আলম সিদ্দিকী


মানুষের পাশে থাকতে চান নুরে আলম সিদ্দিকী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে নৌকার মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক। এ জন্য অনেক দিন ধরেই রাজবাড়ী-২ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে গণসংযোগ করে চলেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাফল্যের বার্তা। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই মানুষের বেশ সাড়াও পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের তরুণ এই নেতা। 

এরই মধ্যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মসজিদ-মন্দির উন্নয়নে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন তিনি। অনেক হতদরিদ্র শিক্ষার্থীসহ প্রতিবন্ধী দুস্থদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষার প্রসারেও রেখে চলেছেন ভূমিকা। নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল-মাদ্রাসা। মৃগী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শিকজান আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিরও। শিক্ষানুরাগী এ তরুণ নেতার অবদান রয়েছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও। শতবর্ষী রাজবাড়ী পাবলিক লাইব্রেরির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদকও তিনি। সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই নুরে আলম সিদ্দিকী হক আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৯৬ সালে 

মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর রাজবাড়ী জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সংগঠন পরিচালনায় দিয়েছেন দক্ষতার পরিচয়। সংগঠনকে করেছেন গতিশীল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন প্রতিহত ও বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী দলের দুঃসময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে কালুখালী উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও মানুষের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে ছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। কালুখালী ছাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়িয়েছেন তিনি। যে কারণে ক্রমেই তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। 

নুরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে আছি। দলের নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত, বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার। এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক। জননেত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, দলের নেতাকর্মী নির্যাতনকারী, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যুরা মনোনয়ন পাবেন না। তার কথার আলোকে তৃণমূল ও জনমতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দিলে আমিই মনোনয়ন পাব বলে বিশ্বাস করি। দল মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়লাভ করতে সক্ষম হবো। এলাকার মানুষের প্রতি আমার সে বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। বিগত কালুখালী উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। তৃণমূলের মানুষের আমার প্রতি যে আস্থা রয়েছে কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনই তার বড় প্রমাণ। বর্তমানে আমার নির্বাচনী এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের যে নিপীড়ন, নির্যাতন ভোগ করতে হচ্ছে এবং তারা যেভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে, দলের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর বিভক্তি রয়েছে, দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তা আমাকে ব্যথিত করে। আমি এমপি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা দূর করা হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সবাইকে সমমূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলকে গতিশীল করতে নেওয়া হবে সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত। 

তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের স্রোতধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। টিআর, কাবিখা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ নানা প্রকল্প দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রূপান্তরিত করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশকে। যেখানে যাচ্ছি সেখানেই এ বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

No comments: