আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

উদ্বোধনের এক দিন পর বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর


রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ উদ্বোধনের এক দিন পর রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শাখা অফিস ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় অফিসে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার ও ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ড ভাঙ্গা হয়েছে এবং  উল্টে ফেলা হয়েছে কাঠের টেবিল- চেয়ার ।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের উড়াকান্দা বাজারে অবস্থিত এ অফিসটি উদ্বোধনের এক দিন পর ভাংচুরের কবলে পরে।
জানাগেছে, গতকাল সোমবার জেলা-উপজেলাসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উড়াকান্দা বাজারে বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনের একদিন পর পদ্মা নদীতে চলাচলরত নৌকা থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র ও দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলে  এ অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, নদীতে চলাচলরত নৌকার টাকা তোলা নিয়ে মুলত দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা। সে কারণে আজ ফরিদ উদ্দিন শেখে গ্রুপের জিয়া মোল্লা উপর হামলা হয় এবং একই কারণে জিয়া মোল্লারা আনোয়ারকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জিয়া মোল্লারাই অফিস ভাংচুরের নাটক সাজিয়েছে।
বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জিয়া মোল্লা জানান, উড়াকান্দায় একটি কোম্পানিতে তিনি চাকুরী করেন। ফোনে আইয়ুব আলী, আনোয়ার, মিরাজ হুমকি দেয় সাইডের কাজের যন্ত্রপাতি নিয়ে যাবে এবং নদীতে ফেলে দেবে টাকা না দিলে।  টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পড়ে আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে মারার জন্য দেশিয় অস্ত্র নিয়ে উড়াকান্দা বাজারে ধাওয়া করে। এ সময় প্রান বাঁচাতে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিসে আশ্রয় নেন। পড়ে তারা পার্টি অফিসে ডুকে অফিসের চেয়ার ভাংচুর করা সহ তাকে মারধর করে। এদের নের্তৃত্ব দিয়েছে মনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন শেখ জানান, বরাট ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের অফিস যেন না হয় বা না থাকে সে উদ্দ্যোশেই আওয়ামীলীগের কিছু নেতাকর্মীর ইন্ধনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা মনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নের্তৃত্বে আয়ুব আলী, আনোয়ার, মমিন শেখ, মিরাজ সহ বেশ কয়েকজন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জিয়া মোল্লাকে মারধর করে অফিস ভাংচুর করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, অফিস উদ্বোধনকালীন নেতাকর্মী সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উর্দ্ধতন নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বরাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু জানান, উড়াকান্দা বাজারে অবস্থিত আওয়ামীলীগের যে অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেটি আসলেই নিন্দনীয়। নদীতে যে নৌকা চলে সে নৌকা থেকে একটি এসোসিয়শেন টাকা তোলেন কিন্তু কিছু দিন ধরে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের ভাই জোর করে নৌকা থেকে টাকা তুলতে যান। এ নিয়ে আজ সকালে এক নৌকার মালিককে মারধর  এবং দুপুরের আনোয়ারকে মারধর করেছে। এ জন্য মামলা হবে জেনে ফরিদ উদ্দিন তার ভাইসহ তার লোক বাঁচার স্বার্থে আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুরের নাটক করছেন। তার ভাই মুদি দোকান করে এরকম যঘন্ন কাজের প্রশ্নই আসে না। আসলে তিনি আলহাজ্ব আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালা পর্ষদে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন শেখ এ হিসাংত্মক মুলক কাজ করছেন। নির্বাচনের আগে এমন কাজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। তাই তিনি এ হিসাংত্মক  মূলক কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান ফরিদ উদ্দিনকে।
রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মামুন অর রশিদ জানান, বরাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর হয়েছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে নদীতে চলাচলরত নৌকার টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছেন। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসার জন্য হাসাপালেও রয়েছে।

No comments: