আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

বালিয়াকান্দিতে ষ্টেশনে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন থামালো সহ¯্রাধিক এলাকাবাসী


মো. আমিরুল হক ঃ বুধবার সকাল ৯টায় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বহরপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে টঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামালো সহ¯্রাধিক এলাকার লোকজন। উদ্বোধন হওয়ার পর রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত করছে। এ ট্রেনটি বহরপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে থামানোর দাবীতে এলাকার সামাজিক কাজে নিয়োজিত সোনার বাংলা সমাজ কল্যান ও ক্রীড়া সংসদের আয়োজনে রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাসফর্মে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসুচির আয়োজন করে। মানববন্ধনের স্থানীয় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয় কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে আসা সহ¯্রাধিক নারী পুরুষের ঢল নামে। এসময় মানববন্ধন কর্মসুচিতে টু্িঙ্গপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বহরপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে স্টোপেজ জন্য রেলমন্ত্রীসহ রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করে বক্তৃতা করেন, সোনার বাংলা সমাজ কল্যান ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক এস,এম হেলাল খন্দকার, উপদেষ্টা বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি শিকদার, এম,এ কুদ্দুস, মোঃ শাহজাহান মিয়া, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি লিটন আক্তার পলাশ প্রমূখ।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারের শর্তপূরণ উপলক্ষে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া দু‘টি রেল লাইন চালু করে। ট্রেন চলাচল শুরু হলে এ ট্রেন লাইন পথে যাত্রী সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই এলাকার সাধারণ যাত্রীদের প্রাণের দাবীর মুখে গত ০২ নভেম্বর থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে সরকার। কিন্তু এই ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসবে। যাবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। আন্তঃনগর ট্রেনটি কালুখালী থেকে ছেড়ে একবারে গিয়ে দাঁড়াবে ফরিদপুর জেলার মধুখালীতে। এরমধ্যে বহরপুর একটি বড় মাপের ষ্টপেজ স্থল। অদ্যাবধী এ লাইনে যত বার আন্তঃনগর ট্রেনের যাতায়াত হয়েছে প্রতিটি ট্রেনই বহরপুর ষ্টপেজ ছিল। কিন্তু এই প্রথম কোন ট্রেন যার ষ্টপেজ বহরপুরে নাই। তাই এলাকার সাধারন মানুষের প্রানের দাবী বহরপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে এক্সপ্রেসটি স্টোপেজ করতে হবে। 
কালূখালী-ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্্েরস ট্রেনটি দীর্ঘদিন চালু হয়ে ২০১৭ সালের ১৫ আগষ্ট থেকে এটি লোকাল ট্রেনে রুপান্তর করা হয়। লোকাল থাকার পূর্বে এ আন্তঃনগর ট্রেনটি অনেকাংশে লাভবান ছিল। তবে এতে উপকার হতো মাত্র কয়েকটি এলাকা মানুষের যেমন ওই আন্তঃনগর ট্রেনটি কালুখালী থেকে ছেড়ে বহরপুর, এরপর মধুখালী, কোয়ালমারী, কাশিয়ানী, সশ্রাইল এরপর ভাটিয়াপাড়া এই কয়েকটি ষ্টেশনে স্টোপেজ দিত। কিন্তু এর মধ্যে অনেকগুলো ষ্টেশন রয়েছে যেখানকার যাত্রীরা এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। যেমন রামদিয়া, আড়কান্দি, জামালপুর, ঘোড়াখালী সাতৈর, ব্যাসপুর সহ কয়েকটি স্টেশন। তখনকার যাত্রীদের এ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলার মধ্যে দিয়ে যদি একটি অথবা দুইটি লোকাল ট্রেনের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে এ সব এলাকার যাত্রীদের অনেক উপকার হতো বলে মনে করতেন এই এলাকার সাধারন মানুষ গুলো। ট্রেন সরকারের একটি লাভবান যান। যেমন ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে দীর্ঘদিনের বন্ধ রেল লাইনটি চালু করেন বর্তমান এ ক্ষমতাসিন সরকার। এরপর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ করে দিয়ে লোকাল হিসাবে চালু করা হয়। ১ নভেম্বর জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। যা বহরপুর ষ্টেশনে ষ্টপেজ না রেখে চলাচল করছে। এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আসছে। বহরপুর ব্যবসায়ীক দিক দিয়েও এই ট্রেনটি লাভবান হবে। ট্রেনটি বহরপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে থামানোর দাবীতে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসুচি সম্পন্ন হয়। এসময় ষ্টেশনে মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী মানুষের ঢল দেখে ট্রেনটি দুর থেকেই গতি থামিয়ে ষ্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লে ট্রেনটির পরিচালক মানববন্ধনে এসে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের সুন্দর আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আপনাদের এই দাবীর কথাটি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো। 


No comments: