আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ চলছে


গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের প্রবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের সংলাপ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা (০১নভেম্বর) ৭টায় এ সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন, আর ১৪ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পৌঁছান তারা।
এদিকে সংলাপে অংশ নিতে বিকেল ৪টায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয় সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের আরো পাঁচ নেতা যুক্ত হওয়ার কথা। কামালের বাড়িতে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকলেও প্রতিনিধি দলে থাকা বিএনপির অন্য নেতারা ছিলেন না। তারা আলাদাভাবে গণভবনে পৌঁছান। এর মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম প্রতিনিধি দলে থাকলেও তিনি সংলাপে যাননি। সবাই পৌঁছে যাওয়ার ১৫ মিনিটের বেশি সময় পর গণভবনে ঢোকেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
সংলাপে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন-বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
সংলাপে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে থাকছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, মো.আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আনিসুল হক, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, শ ম রেজাউল করিম, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দিন খান বাদল, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া।
কয়েকদিন আগেও কেউ ভাবতে পারেননি চির বৈরী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা একসঙ্গে বসবেন। যদিও সরকারি দলের ভাষ্য,তাঁরা বিএনপির সঙ্গে বসছে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করছে। আবার এও অস্বীকার করা যাচ্ছে না বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতাই এ সংলাপে থাকছেন। তবে আজকের সংলাপের পর পরবর্তী পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প ধারা বাংলাদেশ অন্যতম নেতা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যদের সঙ্গে বসবেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সংলাপে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও। সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি রূপরেখা আজকের সংলাপ থেকে আসবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ জনতা।
তবে এরই মধ্যে সরগরম হওয়া আজকের সংলাপটি নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। রাজনৈতিক পাড়ায় নেতাদের ধারণা সরকার নিজের ছক মতোই নির্বাচন করবে। কারও মতে, সরকার দেশের মানুষ ও বহির্বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে তাঁরা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনে আগ্রহী। পরপর দুবার নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির বিষয়। এ ছাড়া আরও একটি মত রয়েছে, বর্তমান অবস্থা ও ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে ‘নেতৃত্বহীন’ বিএনপি খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই জয়ী হবে। কেননা বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দন্ডিতহ হয়ে জেলে, বিকল্প নেতা তারেক রহমান বিদেশে। পরের পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাও সম্প্রতি আটক হয়েছেন।
তবে অবশেষে সংলাপ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসেছেন। সংলাপ ফলপ্রসূ হবে এমনটিই আশা দেশের সাধারণ মানুষের। এর আগে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয় ঐক্যফ্রন্ট। সেখানে ৭ দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় গণফোরাম-বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত এ জোট। এতে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওবায়দুল কাদের জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সংলাপ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপরগেত মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ।
মূলত একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে হচ্ছে এই সংলাপ। জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল বিকল্প হচ্ছে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ জন্য সবার আগে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরশীলতা কমিয়ে কমিশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে; যাতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারে।
কী পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিংবা ক্ষমতায় থাকা না থাকার ইস্যুগুলোই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। সমঝোতার পরিবর্তে বৈরিতাই স্থান করে নিচ্ছে রাজনীতিতে। এ অবস্থা দেশকে এক সঙ্কটজনক অবস্থায় নিপতিত করছে। কিন্তু এ অবস্থা তো কারও কাম্য হতে পারে না। তাই জনকলাণ্যের রাজনীতিই সকলের প্রত্যাশা। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে এমনটিই জনপ্রত্যাশা।

No comments: