আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

কুড়িগ্রামের বীর প্রতীক তারামন বিবি অসুস্থ উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হচ্ছে ঢাকায়



বাদশাহ্ সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবি ভীষণ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শ্বাসকষ্ট আর কাঁশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজে নিজে হাঁটাচলা করতে পারছেন না গত কয়েকদিন থেকে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।
অসুস্থ্য তারামন বিবিকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ খোঁজখবর নিতেন রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।
রাজীবপুর উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: দেলোয়ার হোসেন জানান, হঠাৎ তারামন বিবির শ্বাসকষ্ট সঙ্গে কাঁশিটা অনেক বেড়ে গেছে। শ্বাস কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে কয়েকবার অক্সিজেন ও নেবুলাইজেশন দেয়া হয়েছে। চলাফেরা করতে অন্যের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে পবিবারের সাথে বসবাস করেন তারামন বিবি। তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের জানান, রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন নিয়মিত বাড়িতে এসে চিকিৎসা প্রদান করছিলেন। গত রাতে মায়ের শরীরের অবস্থার অবনতি হলে তিনি ময়মনসিংহ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাই ময়মনসিংহে নিয়ে সিএমএইচ এ ভর্তি করিয়েছি। তিনি আরও জানান বর্তমানে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া মা কিছুই করতে পারে না। মাকে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১নং সেক্টরের হয়ে তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীদের রান্নাবান্ন, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকবাহিনীদের খবরাখবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এ কারনে তাকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশে যে দু’জন মহিলা মক্তিযোদ্ধাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়েছে তারামন বিবি তার একজন।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, আমি বীর প্রতীক তারামন বিবির খোঁজ খবর রাখছি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

No comments: