আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন

দেশের ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারছেন না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তারা চান প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই তাদের বেতন নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি প্রতি স্কুলে সৃষ্টি করা হোক অফিস সহকারীর পদ। তবে মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী বৈষম্য নিরসনের কাজ চলছে।জানা যায়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির একটি ঘোষণা দিয়েছে। তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এখন যে অবস্থা তাতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ না। তার চেয়ে বেশি জরুরি অফিস সহকারী। এদিকে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের যে পার্থক্য রয়েছে (শিক্ষকদের ভাষায় বৈষম্য) তা কমিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। এই দাবিতে চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি করে তারা। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের আশ^াসে অনশন ভাঙেন তারা। শিক্ষকরা বলছেন, মন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভেঙে আমরা ক্লাসে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু এখন বেতন বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে নতুন একটি সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে। যা মেনে নেয়ার মতো নয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সরব প্রতিবাদ। নাজমা করিম নামের একজন শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘১১তম গ্রেড চাই। কর্মচারীর গ্লানি থেকে মুক্তি চাই। শতভাগ পদোন্নতি চাই, সহকারী শিক্ষক হঠানোর সহকারী প্রধানের ফঁাঁদ নয়, অফিস সহায়ক চাই।’ মাহফিজুর রহমান মামুন নামের একজন শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, ১১তম গ্রেড সহকারী শিক্ষকদের দাবি নয়, এটা অধিকার। ১১তম গ্রেড দেয়ার পরে যতখুশি পদ সৃষ্টি করুন, কোনো আপত্তি নেই।আহসান কবির জিতু নামের একজন শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, পদোন্নতি বা সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ আমিও চাই, কিন্তু আন্দোলনের আগে কেনো সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হলো না? আমাদের ১১তম গ্রেড দিয়ে যত খুশি পদ সৃষ্টি করুন, সমস্যা নাই। প্রয়োজনে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের সাথে দায়িত্ব ভাতা দেন। আর সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড চাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পান। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৫তম গ্রেডে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ গ্রেডে উন্নীত হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপেই বেতনের দাবি করছেন সহকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি এর আগে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের বেতন গ্রেড ঠিকঠাক করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা কাজগুলো শেষ করতে চাই। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বাড়বে। সহকারী প্রধান শিক্ষক নামে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতনভাতার জন্য যে আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন, আমি নিজে তাদের অনশন ভাঙিয়েছি, প্রতিশ্রুতিও দিয়েছি। সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি।’প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমিন আমার সংবাদকে বলেন, ‘কোয়ালিটি এডুকেশনের জন্য সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ দরকার। তবে তা আলাদা গ্রেড করে নয়। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিয়ে সহকারী প্রধানদের একই গ্রেডে রেখে শুধু একটি ইনক্রিমেন্ট দেয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই তা সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নয়। তাছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আর প্রশিক্ষণবিহীন নামের যে বৈষম্য চলছে তাও দূর করা দরকার। সব সহকারী শিক্ষকদের একই গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, একটি বিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য অবশ্যই অফিস সহকারী জরুরি। আমরা চাই সরকার তার মেয়াদ শেষের আগেই আমাদের বেতন বৈষম্য দূর করুক। এতে আমরা যেমন উপকৃত হবো, তেমনি সরকারের উপরও খুশি থাকবেন ৪ লাখ শিক্ষক ও তাদের পরিবার।প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের অন্য একটি অংশের সভাপতি তপন ম-ল আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে আসছি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হোক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধানের পদ প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করছি না।’অফিস সহকারী পদ সৃষ্টির বিষয়ে সরকারকে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অফিস সহকারী পদ আমাদের প্রয়োজন। তবে অফিসিয়ালি তা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।’ বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক অনলাইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করতে হবে। যেহেতু প্রধান শিক্ষকরা এখন ১১তম গ্রেডে পাচ্ছে তাই আমাদের ১২তম হলে সমস্যা থাকতো না। তাছাড়া শিগগিরই প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হবেন। তাই আমরা চাই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়া হোক। এখানে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ অপ্রয়োজনীয়। তাছাড়া স্কুলগুলোতে অফিস সহকারী পদই বেশি দরকার।’বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির আমার সংবাদকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের কাজ চলছে।’ প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘আপাতত হচ্ছে না। তবে সবার সুবিধা বিবেচনা করেই কাজ এগিয়ে চলছে।’ অফিস সহকারী পদ সৃষ্টির বিষয়ে আলোকপাত করা হলে এই কর্মকর্তা বলেন, অফিস সহকারী পদটির বিষয়ে শিক্ষকরা আমাদের বলে নাই।’
Source: amar-sangbad

No comments: