Sunday, December 23, 2018

গ্লানিকর পরিচয় থেকে মুক্তি চান অন্তত দুই হাজার যৌনকর্মী ভোটার


রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে ওদের গ্রামের নাম লেখা হয়েছে “পতিতালয়”। সেই পরিচয় পত্র নিয়ে ঘাটে ঘাটে হেনস্তার স্বীকার দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী  রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার যৌন কর্মীরা। তাই এবার ভোটের বিনিময়ে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের এমন গ্লানিকর পরিচয় থেকে মুক্তি চান যৌনকর্মীরা।
প্রকৃতির সব আলো এখানে বিবর্ন। জীবন এখানে ছেরা কাগজের মতো ছন্নছারা। গল্পটা পদ্মাপারের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর।এই পল্লীতে থাকে রক্ত মাংসেরই একদল মানুষ। সভ্য সমাজ যাদের ঠাই দেয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রে এখানকার সব বাসিন্দার গ্রামের নাম “ পতিতালয়”। অবিশ্বাস্য হলেও সেটাই লেখা। পতিতালয় লেখা এই সব যৌন কর্মীকে বিরম্বনায় পরতে হয় পদে পদে।
যৌনকর্মী মায়া জানান, আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করতে গেলে পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে বা মারা যাবার পর মৃত্য সদন নিতে গেলেও পরিচয় পত্র প্রয়োজন। কিন্তুু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় সমাজের মানুষেরা আমাদের দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকায়। ছোট করে দেখা হয় আমাদেরকে।
যৌনকর্মী শায়লা জানান, আমি এই পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকা শহরের অনেক গার্মেন্টস ঘুরেছি পতিতালয় লেখা থাকায় কেউ কাজ দেয়নি। পরে পরিচয়পত্র নকল করে কাজ নিতে হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় এই যৌনপল্লীতেও এখন ভোটের হাওয়া। বরাবরের মতো এবারও ভোট দিবেন অন্তত দু-হাজার ভোটার। প্রতিরাতে হাত বদল হওয়া এই নারীদের এবার একটাই চাওয়া ভোটের বিনিময়ে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে মুছে দেওয়া হোক প্রামের নাম পতিতালয়। যেহেতু এলাকাটি দৌলতদিয়া রেলওস্টশন এলাকায় পল্লীটি তাই গ্রামের নাম দৌলতদিয়া রেলস্টেশন বা দৌলতদিয়া বাজার দেওয়ার দাবী তাদের।
যৌনকর্মীদের জীবনের গ্লানি কিছুতেই মুচবার নয়। কিন্তুু দেশের একটি পরিচয়পত্র সেখানেও যেন আরেক দফা গ্লানি। রাষ্ট্র চাইলেই মুছে ফেলতে পারে সেই অপমানজনক পরিচয়।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভীযান ( সুপ্র )’র রাজবাড়ী জেলার সম্পাদক শামীমা আক্তার মুনমুন বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রে এমন ঠিকানা দিয়ে তাদের ছোট করা হয়েছে। কেউ এই পেশায় ইচ্ছা করে আসেনি। সমাজের কাছে এভাবে কাউকে ছোট করার অধিকার কারো নেই। ওরা সমাজের আট দশ জনের মতো মানুষ। একজন মানবাধীকার কর্মী হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার দাবী জানাই।   
এ ব্যপারে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকাটি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া। তাই গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে একাদশ জাতীয় সংসদের সম্মানের সাথে তাদের ভোট গ্রহন করা হয়। আর পরিচয়পত্র প্রস্তুুত করেছে নির্বাচন অফিস। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে গ্রামের নাম পতিতালয় সংশোধন করা হবে।