আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

রাজবাড়ী -১ : নৌকাকে বিজয়ী করতে একাট্টা আ’লীগ, বিভক্ত বিএনপি


আজু শিকদার ॥
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও রাজবাড়ী-১ (গোয়ালন্দ-রাজবাড়ী সদর) আসনে বিএনপি যখন প্রার্থীই চুড়ান্ত করেতি পারেনি তখন নৌকাকে বিজয়ী করতে সকল মতভেদ ভুলে একাট্টা হয়েছে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা। নৌকার টিকিট নিশ্চিত করে গত মঙ্গলবার নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী কেরামত আলী এমপিকে নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনার মধ্যদিয়ে তারই প্রমান করেছে দলটি।
এদিকে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে রাজবাড়ীতে বিএনপি’র রাজনীতি দুই বলয়ে বিভক্ত। পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন ছাড়াও এলাকায় সারাক্ষণ এক গ্রুপ অপর গ্রুপের মধ্যে শত্রুতা পূর্ন সম্পর্ক বিরাজ করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন বোর্ড এখনো পর্যন্ত দু’জনকেই মনোনয়ন পত্রের চিঠি হস্তান্তর করেছে। এরা হলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈময় এবং সহ সভাপতি এ্যাড. আসলাম মিয়া।
অপরদিকে ষষ্ঠ বারের মত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন। তার আসার খবরে সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন। সময় বাড়ার সাথে সাথে শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। রাজবাড়ী-১ আসন থেকে কাজী কেরামত আলী ইতিপূর্বে ৫বার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কাজী কেরামত আলী এমপি’র আগমন উপলক্ষে দৌলতদিয়ায় ফুল নিয়ে উপস্থিত হন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন্নাহার চৌধুরী লাভলী, রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আ. জব্বার, জৈষ্ঠ যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়া, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র শেখ মো. নিজাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম মন্ডল প্রমুখ।
স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে পূর্বে পদ পদবীসহ অন্যান্য বিষয়ে নেতাদের মধ্যে দুরুত্ব থাকলেও মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মধ্যে সেই দুরত্ব লক্ষ্য করা যায়নি। সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্যকালে প্রত্যেকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। এতে নেতাকর্মীরাও ব্যাপক উজ্জীবিত হতে দেখা যায়।
কাজী কেরামত আলী এমপি ষষ্ঠ বারের মত তাকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ডের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।
অপরদিকে বিএনপি’র দুই প্রার্থীর গোয়ালন্দ উপজেলায় আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। উভয় কমিটি আলাদা আলাদা ভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়লেও তাদের সে গ্রুপিংয়ের সমাপ্তি হয়নি। বরং দুইজনকে মনোনয়ন পত্রের চিঠি দিয়ে সেটাকে এখনো পর্যন্ত জিইয়ে রাখা হয়েছে বলে অনেকেরই ধারনা।

No comments: