আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

বালিয়াকান্দিতে দুর্ণীতি প্রতিরোধে প্রকাশ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী বাছাই কার্যক্রম


সোহেল রানা  ঃ বয়স্ক ভাতা প্রদানে অনিয়ম, দুর্ণীতি ও অর্থ গ্রহনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ অভিযোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর গ্রহন করেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ইউনিয়নের মধ্যে মাইকিং করে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম শুরু করেন। এতে কোন বয়স্ক ব্যাক্তি বাদ পড়ছেন না। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এসময় নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মাষ্টার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অজয় হালদারসহ ইউপি সদস্য, সদস্যা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাগেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান; পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি; আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাঁদের মনোবল জোরদারকরণ; চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে বয়স্ক ভাতা চালু করে আ’লীগ সরকার।
সেই সময় থেকেই রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে শুরু হয় বয়স্ক ভাতার প্রচলন। শুরু থেকেই নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েই অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে বয়স্ক ভাতা প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অজয় কুমার হালদারের অতীতের সব পদ্ধতি ভেঙ্গে ব্যতিক্রর্মী চিন্তা এবং শতভাগ নীতিমালা বায়স্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান যাচাই-বাছাইয়ের ধরণে উপজেলার প্রকৃত বয়স্ক ভাতা প্রার্থীরা আশার আলো দেখছে। তাদের দাবী বর্তমান উন্মুক্ত পদ্ধতিতে প্রকৃত দু:স্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিরাই এই সুবিধা পাবে। 
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা মিলে মোট অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে ১৩৭৮ জনের জন্য। এদের মধ্যে বয়স্ক ভাতা ভোগীদের জন্য বরাদ্দ ৭২৫ জন। প্রতি বয়স্কভাতাভোগী ৫ শত টাকা হারে এই ভাতা প্রাপ্ত হবেন। উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সভায় উন্মুক্ত বাছাইয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোও শেষ করা হবে।
ব্যতিক্রমী যাচাই-বাছাই সম্পর্কে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অজয় কুমার হালদার বলেন, পূর্বে ইউপি সদস্যদের প্রদানকৃত তালিকা যাচাই-বাছাই করে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরটিতে পৌছাতো। ভাতা প্রার্থীদেরকে যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে অর্থ প্রদান পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপগুলোতেই ইউপি সদস্যদের মাধ্যমেই হতো। এই সুযোগেই কিছু অসাধু ইউপি সদস্য অর্থের বিনিময়ে অসৎ সুবিধাভোগীদের চুক্তিস্বাপেক্ষে বয়স্ক ভাতার সুযোগ করে দিত বলে জানতে পেরেছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ঘষা মাজা, বিত্তবান ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগও অতীতে শোনা গেছে। 

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচারনার মাধ্যমে সকল বয়স্ক ভাতা প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য দপ্তর থেকে অনুরোধ জানানো হয়। সেখান থেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সকলের আবেদন গ্রহণ করে বাছাই এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকরা হয়। দ্বিতীয় ধাপে প্রাথমিক বাছাইকৃত প্রার্থীদের তদন্তের মাধ্যমে আর্থিক বিষয়াদী খোঁজ খবর নেওয়া এবং তৃতীয় ধাপে উপজেলা কমিটিতে চুড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে বই বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাতা প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে সরকারের সুষ্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে, মূলত নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং নিজের দায়িত্ববোধ থেকে ভাল কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র। ভাতা শব্দটি অনুদান নয়, এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার, প্রাপ্য সম্মানী। যোগ্য এবং প্রকৃত ভাতা ভোগী বাছাই এক ধরনের চ্যালেঞ্জ, তারপরও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা স্যারের আন্তরিকতায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি ইউনিয়নে সহ¯্রাধিক মানুষের মধ্যে থেকে শতাধিক মানুষকে বেঁছে নেওয়া অনেক বড় কষ্টসাধ্য। হ্যাঁ এখানে কিছু ব্যতিক্রমী ব্যাপার রয়েছে, উন্মুক্তপদ্ধতিতে সরাসরি ভাতাভোগীকে চি‎িহ্নতকরণ, তাদের স্বাস্থ্যগত বিষয়, পরবর্তীতে অর্থনৈতিক বিষয়াদি খোঁজ নিয়ে চুড়ান্ত প্রার্থী এবং অপেক্ষামান তালিকা প্রস্তুত করা’।

বয়স্ক ভাতা প্রার্থী আকলিমা বেগম, আলাউদ্দিন মোল্যা, পরেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি, অনেক আগেই আমাদের বয়স্ক ভাতা প্রাপ্য হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে আমার ভাগ্যে তা জোটে নাই। এবার সরাসরি যাচাই-বাছাই করা লোকজন আমাদের দেখে ভাতাভোগী হিসেবে নির্বাচন করার আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা আশা করছি সামনে সরকারে দেওয়া বয়স্ক ভাতা পাব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা বলেন, ‘হাজারো প্রার্থীর ভীড়ে প্রকৃত ভাতাভোগী বাছাই অনেক চ্যালেঞ্জের, তাদের বয়স, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক অবস্থাসহ বিভিন্ন দিক দেখতে হচ্ছে। বয়স্ক ভাতা প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতকরণের সবটাই করা হচ্ছে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে, সরাসরি।  আমার বিশ্বাস উপকারভোগী বাছাইয়ে সব থেকে ভালটাই করতে সক্ষম হচ্ছি আমরা’।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতীতে ভাতাভোগী যাচাই-বাছাইয়ের পর বিভিন্ন অভিযোগ উঠত। সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ভাতা ভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে । বর্তমান ব্যতিক্রর্মী এই পদ্ধতিতে বাছাই করা চুড়ান্ত তালিকা নিয়ে কোন অভিযোগ উঠার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। 

No comments: