আপনার আশে পাশের বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনা, প্রকৃতি পরিবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন- [email protected]

বালিয়াকান্দিতে মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ॥ গণিত পরীক্ষা স্থগিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলাতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার শনিবারের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে এক শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রশ্নপত্র সাদৃশ্য কাগজ পাওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারুয়া ইউনিয়নের একজন শিক্ষক ফেইসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে স্ট্যাটার্স দেয়। সেখানে তিনি কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে শনিবারের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নমুনা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পাওয়া যায়। 

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন প্রধান শিক্ষক জানান, প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। সেটা দিয়ে আমরা পরীক্ষা গ্রহণ করি শিক্ষার্থীদের। মুলত প্রশ্ন প্রনয়ন কমিটি নেই ক্রয় তবে কমিটি আছে বলে আমি জানি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রনজিৎ কুমার পাল জানান, প্রশ্ন আমরা গোপনীয় ভাবে তৈরী করে প্রেসে ছাপাই। শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়ে মডারেট করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকলে যারা প্রশ্নের সাথে জড়িত তাদেরই দায়বদ্ধতা। অভিযোগ তো বিভিন্ন রকম আসতেই পারে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 
  
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়সার জানান, প্রশ্নপত্র যদি নিজেরা স্থানীয় ভাবে প্রনয়ন করতো তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠত না। শুনেছি শিক্ষক সমিতি ঢাকা থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করে আনে। স্থানীয় ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেন না। যদি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত শনিবারের (৮ ডিসেম্বর) স্থগিত করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে শনিবারের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আগে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হতো স্থানীয় ভাবে এখন শুনেছি প্রশ্নপত্র ক্রয় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং তৈরীর বিষয়ে আগামী উপজেলা পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হবে। শিক্ষক সমিতি তাদের লাভের আশায় এ কাজ করে থাকে। প্রশ্ন ফাঁস গুরুতর অপরাধ, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

No comments: