Wednesday, December 19, 2018

সুরক্ষা-নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা-সু-না-ম সাতক্ষীরা জেলা কমিটির পক্ষথেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান



মাধব দত্ত, সাতক্ষীরা: সুরক্ষা-নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা-সু-না-ম সাতক্ষীরা জেলা কমিটির পক্ষথেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ সকাল ১১টায় সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলীপি প্রদান করা হয়। সুনাম জেলা কমিটির সভাপতি এ্যড: সোমনাথ ব্যানার্জী স্মারকলীপি প্রদান করেন। স্মারকলীপিতে বলা হয় যে,আমরা আপনার সুর্দৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান রেখে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের স্বাধিনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কালজয়ী আহবানে ১৯৭১ সালে দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহনে তৎকালিন পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বীজয়ের গর্ব ছিনিয়ে আনে। দেশ অর্জন করে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়ীক, ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র।
কিন্তু, পরাজিত প্রতিক্রীয়াশীল অশুভচক্র দেশের লাখো শহিদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বাধিনতাকে নস্যাৎ করতে দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, হত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালঘুদের উপর তত্যাচার, জমি ও সম্পদ দখল এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি অব্যহত রেখেছে।
আমরা লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রদায়ীক পরাজিত শক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসির নগর উপজেলায় হিন্দু পাড়ায় হামলা চালিয়ে ১৮০টি পরিবার ও ১৬টি মন্দিরে লুন্ঠন ও অগ্নি সংযোগ করেছে। এরপর গাইবান্ধার গবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে হামলা চালিয়ে উচ্ছেদের নামে ঘরবাড়ী ভাংচুর করে। এই ঘটনায় ৫০জনের বেশী মানুষ আহত হয় ও ৩ জন মারা যায়। আজও তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসকল ঘটনা দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। আমরা মর্মাহত এবং উদ্বেগ প্রকাশ করি, নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই। এছাড়া সংখ্যলঘু মানুষের ঘরবাড়ী লুট অগ্নি সংযোগ, মুর্তি ভাঙ্গা, চুরি  নৈমিত্তিক ঘটনা।
আমরা আরও জানাতে চাই আপনার সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে এবং সরকারের পক্ষথেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহনের ফলে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে। যার জন্য সাধুবাদ জানাই।
প্রসংঙ্গতঃ বিগত ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা জেলা সহ দেশের সকল স্থানে পরিকল্পীত ভাবে বোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও হত্যা ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে সময়ে সরকারের দৃঢ় ভুমিকা ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। এ জন্য সরকার প্রশংসার দাবি রাখে।
আমাদের দাবী:
বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সহ আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী সরকারি উদ্যেগ গ্রহন;
অর্পিত সম্পত্তি বিরোধ নিস্পত্তিতে আইনি জটিলতা অপসারন;
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংখ্যালঘু কমিশন গঠন;
সকল ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান;
বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর হামলায় দায়েরকৃত মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া গ্রহন ও নিস্পত্তি করা।