Saturday, December 1, 2018

রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙ্গচুর, ৩ টি দোকান পুরিয়ে ছাই গুলি বর্ষন ৮ টি গুলির খোশা উদ্ধার



রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ীতে বি এন পি জামাতের ঝটিকা তান্ডবে তিনটি দোকান ভর্ষিভুত ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙ্গচুরের অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত আটটার দিকে হঠাৎ বেলগাছি বাজারে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষন করা হয়। গুলির শব্দে আতঙ্কে এদিক ওদিক ছোটা ছুটি করে লোকজন। ওই সময় বাজারের একপাশে বাজারের  মানিক ষ্টোর, বিজন হেয়ার ড্রেসার ও হাচেন আরী খার পানের দোকেনে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে ও আগুন দিয়ে সম্পন্ন পুরিয়ে দেয় সেই সাথে গুলি ছুরতে ছুরতে পালিয়ে যায় তারা।
খানগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য আশ্রাফুল আলম আক্কাস বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের সাথে মত বিনিময় সভার আয়োজন করে। মত বিনিময় শেষে বেলগাছি বাজার এলাকায় আসলে পাঞ্জাবি ও হেলমেট পরিহিত সাত আট যুবক নেতাকর্মীদের উপর গুলি বর্ষন করে। এ সময় নেতাকর্মীরা নিরাপদ স্থানে সরে গেলে বাজারের  মানিক ষ্টোর, বিজন হেয়ার ড্রেসার ও ফজলু মল্লিকের পানের দোকেনে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে ও আগুন দিয়ে সম্পন্ন পুরিয়ে দেয় দোকান তিনটি। এ সময় পরে গিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু নাসির গুরুতর আহত হয়। তিনি বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
পুরে যাওয়া মানিক ষ্টোরের সত্বাধীকারী ফল ব্যাবসায়ী মানিক (ফল মানিক) বলেন, বেলগাছি রেল ষ্টেশন এলাকার উত্তর দিক থেকে ৭/৮ জন লোক হেলমেট পড়ে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে বাজারের লোকজন আতংকে ছুটাছুটি শুরু করলে মূখোশ ধারিরা আমার দোকানের সামনে এসে দোকানের ভেতর বাহির দিয়ে প্রেট্রল ছিটাতে থাকে এবং ম্যাচ ফায়ার দিতে থাকে। আমার দোকানেও প্রেট্রল বিক্রয় করি বিধায় মুহুর্তেই আগুনের লেলিহানে আমার দোকান ও আমার পাসের দোকান পুরে ছ্ইা হয়ে যায়। ভাই সপ্তায় আমার ৬ হাজার টাকা কিস্তি কি করবো  বলতে বলতে মানিক কান্নায় ভেঙ্গে পরেন সৃষ্টি হয় এক হৃদ্বয় বিদারক দৃশ্যের।
 বিজন হেয়ার ড্রেসারের মালিক বিজন কুমার শীল বলেন, আমি সন্ধা রাতেই দোকান বন্ধ করে বাড়ী চলে যাই সন্ধ্যার পর বাজারে চিল্লাচিল্লি ও আগুনের কুন্ডুলি দেখে বাজারে দৌড়ে এসে দেখি আমার দোকান পুরে  ছাই হয়ে গেছে। পরে জানতে পারলাম একদল মূখোশধারি হেলমেট পড়ে এসে আমাদের দোকান পুরিয়ে দেয় ও এলাপাথারি গুলি ছুরে বাজারে আতংক ছড়ায়। আমার সাথে ব্যাক্তিগত কারো এমন শত্রুতা নাই যে আমার দোকান পুরিয়ে দিতে পারে। তবে  আমি সংখালঘু বিধায় এ এলাকায় বসবাসরত সংখালঘুদের নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে ভয় দেখানোর জন্য জামাত  বিএনপি এ কাজ করে থাকতে পারে।
বাজারের টোংঘড়ের মুদি দোকানদার হাছেন আলী খান বলেন, আমার পাসের দোকান পুড়ে যাচ্ছে দেখে দোকান বন্ধ না করেই দৌড়ে আগুন নিভাতে যাই একটু পড়েই আমি দেখি আমার দোকানেও  আগুন ধরে গেছে এতেকরে আমরা তিনটি পরিবার পথের ফকির হয়ে গেলাম কি করমু জানিনা আর কিস্তি কিভাবে দেব তাও জানিনা।
ওই ঘটনার পর রাত দশটার দিকে চন্দনী ইউনিয়নের ধাওয়াপারা ঘাটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙ্গচুর করা হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র টেলিভিশন।

চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব বলেন, এই এলাকার জামাত বিএনপির নেতা কর্মীরা ১৫ থেকে ১৭ টি মোটর সাইকেল নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মালেক ভাই ভয় নাই রাজপথ ছারি নাই এবং খালেদা জিয়া ভয় নাই রাজপথ ছারি নাই স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙ্গচুর করেছে। এ ছারাও আমরা ধারনা করছি, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আতাহার হোসেন তকদীর এবং চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক নাশকতার মামলায় কারাগারে থাকায় তার সমর্থকরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।
এ ব্যপারে রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, এলাকায় আতঙ্ক ছরাতে একটি গোষ্ঠি এমন তান্ডব চালতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আটটি কার্তুজ। এ ব্যপারে তদন্ত চলছে, নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।