Sunday, January 20, 2019

ঝিনাইদহে দরপতনে লোকসানে বাঁধাকপি চাষিরা



বসির আহাম্মেদ ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের বাঁধাকপি চাষিরা ক্রমাগত দরপতনের কারণে লোকসানের সম্মুখিন। চাষীরা জমির কপি অর্ধেক বিক্রি করছে নামমাত্র মুল্যে আর বাকি অর্ধেক খাচ্ছে গরুতে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে এ বছর জেলার ৬  উপজেলায় সবিজ আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪’শ ৫৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ নানা সবজি।
এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সবজির ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধা কপির ভালো ফলন পেয়েছে চাষীরা। তবে দাম পাচ্ছে না তারা। শীতের শুরুতে বাজারে অন্যান্য বছরের চেয়ে বাঁধাকপির দাম ভালো ছিল। তবে এখন বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ক্ষেত থেকে দু থেকে আড়াই কেজি সাইজের বাঁধাকপি ২ বা ৩ টাকা কেজি দরে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে। এত কম দামে বিক্রি করে চাষির উৎপাদন খরচ উঠছে না। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাঁচটিকারি গ্রামের চাষি খবির বিশ্বাস জানান, এবার ১২ কাঠা জমিতে তিনি বাঁধাকপি চাষ করেছেন। যশোর থেকে প্রতিপিস চারা ১ টাকা দরে কিনে এনেছেন। ক্ষেতে ৪ হাজার  কপি হয়েছে। সার, কীটনাশক ও কামলা খরচসহ প্রতি পিস কপি উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। কিন্তু বাঁধা কপি বিক্রি করছেন ২ থেকে ৩  টাকা পিস। এতে তার মোটা টাকা লোকসান হচ্ছে।একই গ্রামের চাষি জমির উদ্দিন জানান, দু’সপ্তাহ আগে ১২ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া দিয়ে দু হাজার কপি ঢাকা নিয়ে যান। ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তার কোন লাভ থাকেনি।  নামমাত্র বিক্রি হচ্ছে আর বাকি খায়াচ্ছেন গরু খাদ্য হিসেবে। একই দশা জেলার বাকি উপজেলাগুলোতে। ভালো ফলন পেয়েও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না তারা। কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, ফলন ভালো হওয়ার পর দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তাই সরকারি ভাবে এ এলাকায় কোল্ডস্টোরেজ নির্মান করলে এ লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেত তারা। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি এম আব্দুর রউফ বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা পরিমিত সারের ব্যবহার, সেচ প্রদাণ, চাষাবাদ করে বাঁধাকপির ভালো ফলন পেয়েছে। দাম কম হওয়ার ব্যাপার তিনি স্বীকার করেন।