Sunday, January 27, 2019

কালুখালীতে আ.লীগের নেতা আলী চেয়ারম্যানকে দলীয় মনোননয়ন দেওয়ার দাবী উঠেছে


মাসুদ রেজা শিশির ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণয় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সর্বত্রই বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষে আগাম প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছেন। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলাটি ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ৭ টি ইউনিয়নেই আ.লীগের দলীয় চেয়ারম্যান রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে। এ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দাবীদার যোগ্য প্রার্থী বলে বিবেচিত শাওরাইল ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা আ.লীগের সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম আলী। শহিদুল ইসলাম আলী’র রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তিনি রাজনিতি করতে গিয়ে ৫বার কারা বরণ করেছেন,২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট সরকার গঠন করার পর আলীর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা দায়ের করেছিল যার মধ্যে অধিকাংশ মামলায় ছিল পেনডিং মামলা। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনিতির সাথে জড়িত ছিলেন স্কুল জীবনে বি-কয়া হাইস্কুলের ২বার ক্যাপ্টেন ছিলেন পরে মৃগী কলেজে ছাত্রলীগ করেন পরবর্তীতে অভিন্ন পাংশা উপজেলার ছাত্রলীগ পরে যুবলীগের রাজনিতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এই নেতা। পাংশার দক্ষিণ অঞ্চল তথা আঞ্চলিক রাজনিতিতে শহিদুল ইসলাম আলীর ভূমিকা ছিল অপরি শীম আলী শাওরাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দির্ঘদিন নিষ্ঠার সাথে দলীয় কর্মকান্ড পারিচালনা করেছেন তিনি। যুবলীগ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনিতিতে শাওরাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে অদ্যবদি কাজ করে চলছেন তবে সহ-সভাপতি হলেও দলের প্রায় গুরুদায়িত্ব তিনিই পালন করেন। জন¯্রুতি রয়েছে শহিদুল ইসলাম আলী শাওরাইল ইউনিয়নকে দলীয় ভাবে শৃঘল অবস্থায় রেখেছেন তিনি ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে থাকেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠর করার পর তৎকালীন এমপি নাসিরুল হক সাবু সংসদে দাড়িয়ে শহিদুল ইসলাম আলীর বিরুদ্ধে একাধীক বার কুৎসা রটনা করেছেন। শহিদুল ইসলাম আলী ১৫ ফেব্রুয়ারীর পাতানো নির্বাচন পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছিলেন সেই সাথে রাজবাড়ী জেলা আ.লীগের বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি’র বাসভবনে হামলা হয়েছিল সে সময়ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে তখনও সক্রিয় ছিলেন এই নেতা রেল দখলসহ সকল কর্মসূচীতে শহিদুল ইসলাম আলীর ভূকিমা ছিল অত্যান্ত প্রশংনিয়। ২০০১ সালে শহিদুল ইসলাম আলীকে হত্যার জন্য তার বাড়ীতে হামলা করা হয় সে হামলায় আলী প্রাণে বেচে গেলেও তার পতিবেশী আব্দুল ওয়াহাব মোল্লা নামের এক ব্যাক্তি সেদিন গুলিবৃন্দ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছিল। বিভিন্ন সময় দক্ষিন অঞ্চল থেকে আলীকে বাদ দিলে বা তাকে হয়রানী করলে আওয়ামীলীগের সংগঠন দুবল হয়ে যাবে এমন ধারনা সবসময় প্রসন করে আসছিল বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। ২০১১ সালে ইউপি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জেলার সর্বউচ্চ ভোট পেয়ে শহিদুল ইসলাম আলী নির্বাচিত হন এর পর পূনরায় নৌকা প্রতিক নিয়ে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে ইউনিয়ন পরিষদে ২য় মেয়াদে নির্বাচিত হন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী। সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপির পক্ষে দিনে রাতে মাঠে থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে ৪র্থ বারের মত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপিকে পূনরায় বিজয়ী করেছেন। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর রাজবাড়ী জেলার মধ্যে তিনিই এক মাত্র চেয়ারম্যান নিজ অর্থ ব্যায় করে ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিটে একটি করে গরু তথা ৯টি গরু জবাই দিয়ে নেতাকর্মীদের প্রীতি ভোজ করিয়েছেন সেই সাথে ইউনিয়নে হিন্দু ভোটারদের জন্য ১০ মন মাছ দিয়ে তাদেরও প্রীতিভোজ করিয়েছেন। আওয়ামীলীগ করার কারনে বিভিন্ন সময় অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই ত্যাগী আওয়ামীলীগের নেতা। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কালুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্বুদ্ধ করে চলছেন। শাওরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন আমাদের প্রাণের চাওয়া আমাদের প্রিয় নেতা শহিদুল ইসলাম আলীকে দলীয় মনোনয়ন প্রধান করা হোক। আমরা জোর দাবী জানাই,  দলের জন্য  তিনি নিবেদিত থাকেন সব সময়।

রাজনিতির পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজ করে চলছেন এই চেয়ারম্যান নিজ উদ্দ্যোগে গড়ে তুলেছেন নিজ গ্রামে লাড়িবাড়ী দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা,সেই সাথে একই এলাকার ৩টি মসজিদের সভাপতিও তিনি লাড়ীবাড়ী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় ও লাড়ীবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ২টির পরিচালনা কমিটির সভাপতিও তিনি একই সাথে লাড়ীবাড়ী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও হাটের মালিক হিসাবে দির্ঘদিন ব্যবসায়ীসহ সকল প্রকার মানুষের নিষ্টার সাথে সেবা প্রদান করে আসছেন এই মানুষটি।

 এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী বলেন, আমি দলের প্রতি আস্থাশীল। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। আমরা রাজবাড়ী জেলা আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি’র নির্দেশে রাজনীতির মাঠে আছি। তার সিন্ধান্তই শেষ কথা। তিনি যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে তাকেই বিজয়ী করব। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট বাজারে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী কে নিয়ে ইতি মধ্যেই নানা আলোচনা হচ্ছে। আসন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে তাকে দেখতে চায় সাধারণ মানুষও।