Monday, January 21, 2019

কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ নতুন মুখ; চলছে গণসংযোগ, প্রচারনা




আবু সাঈদ,কালুখালী (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সরগরম হয়ে উঠেছে। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সম্ভব্য ৫ নতুন মুখ গণসংযোগ ও প্রচারনা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে যারা প্রচারনায় মাঠে নেমেছে তারা হলেন, কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু, সাওরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী, জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব ও মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর। ফেসবুক, পোষ্টার, গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে সম্ভব্য ৫ প্রার্থীই প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মিজানুর রহমান মজনু ঃ উপজেলা নির্বাচনের সম্ভব্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মজনু রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা মদাপুর ইউনিয়নের শিবানন্দপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মহাজন পরিবারে তাঁর জন্ম। গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থার প্রতি মানুষ যতদিন আস্থাশীল ছিল ততদিন তাঁর পরিবারের লোকেরা সামাজিক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। ১৯৯৬ সাল থেকে রাজবাড়ী -২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের একান্ত সহচর হিসেবে পাশে অবস্থান নেন মিজানুর রহমান মজনু। এরপর থেকে সুখে দুঃখে কখনও তাঁর পাশ ছারেনি মজনু। এজন্য বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তাকে অনেক যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়েছে। সর্বদা পাশে থাকার কারনে রাজবাড়ী -২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের বিশ্বস্থ মানুষ হিসেবে মিজানুর রহমানের জুরি নেই। বিগত উপজেলা নির্বাচনের পর মিজানুর রহমান মজনু এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছিল। সে থেকে গণসংযোগ, প্রচার প্রচারনা ও এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজও শুরু করে। তাঁর প্রচেষ্টায় কালুখালীর চাঁদপুর এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ও শিবানন্দপুর এলাকায় শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ণ, স্কুল, মসজিদ ও মাদরাসার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মিজানুর রহমান মজনু বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। এছাড়া জেলা পরিষদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য। মিজানুর রহমান মজনুর বিশ্বাস দুর্দিনের বন্ধু হিসেবে দল তাকে মনোনয়ন দিবে।
শহিদুল ইসলাম আলী ঃ  উপজেলা নির্বাচনের সম্ভব্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম আলী সাওরাইল ইউনিয়নরে চেয়ারম্যান। রাজবাড়ী -২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিমের আস্থাভাজন মানুষ হিসেবে তিনিও একজন। পরপর ২ বার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শহিদুল ইসলাম আলী সাওরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে এক কথার মানুষ। কারো উপর চ্যালেঞ্জ ছুড়লে তা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পরে লাগেন। বিগত চেয়ারম্যান নির্বাচনগুলোতে তারই প্রতিফলন দেখিয়েছেন শহিদুল ইসলাম আলী। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচনের সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে সে প্রচারনায় মাঠে নেমেছে। ইতিপূর্বে শহিদুল ইসলাম আলীর সমর্থকরা কালুখালীর বিভিন্ন এলাকায় মোটর শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে আলীর নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন শহিদুল ইসলাম আলী।
খায়রুল ইসলাম খায়ের ঃ খায়রুল ইসলাম খায়ের উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণসংযোাগের মধ্যদিয়ে সে আগামী উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন। কালুখালীর বিভিন্ন এলাকায় তার ভক্তরা প্রচারনায় মাঠে নেমেছে। নিজেও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে মুরব্বিদের নিকট দোয়া প্রার্থনা করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হবার প্রত্যাশা করেন খায়রুল ইসলাম খায়ের।
আতিউর রহমান নবাব ঃ কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব পরপর ২ বার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভাট, বিদ্যুতায়ণ, স্কুল, মসজিদ ও মাদরাসার ব্যাপক উন্নয়ন করে আতিউর রহমান নবাব এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ইতোমধ্যে তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাকে তুলে ধরেছেন। তিনি নিজেও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রার্থী হিসেবে দোয়া প্রার্থনা করছেন। আতিউর রহমান নবাব জানান, বিগত জোট সরকার আমলে আমাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমি দলের হাল ছারিনি। তার নেতৃতে কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এক-পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ। আতিউর রহমান নবাবের বিশ্বাস দল তাকেই মনোনয়ন দিবে। সে আশা নিয়েই প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন নবাব।
শহিদুজ্জামান সাগর ঃ শহিদুজ্জামান সাগর মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সে সাংস্কৃতিমনা মানুষ। সামাজিক নানাবিধ কর্মকান্ডেও তার ব্যাপক অবদান আছে। মৃগীর এক ঐতিহ্যবাহী মোল্লা বাড়িতে তাঁর জন্ম। সারা উপজেলায় তাঁর পরিবারের পরিচিতি রয়েছে। আওয়ামীলীগ করার অপরাধে ১৯৮৮ সালে তৎকালীন সর্বহারা পার্টির সদস্যরা সাগর মোল্লার দু ভাইকে একই দিনে নৃসংশভাবে কুপিয়ে ও গুলিকরে হত্যা করে। তাদের হত্যার তালিকায় সাগর মোল্লারও নাম ছিল। সেই দিনের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে অদ্যবধি সাগর মোল্লা আওয়ামীলীগের রাজনীতি আঁকড়ে ধরে আছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে শক্তিশালী এক প্রার্থীকে পরাজিত করে সাগর মোল্লা প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর বিশ্বাস, দল থেকে এবার উপজেলা নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড গতিশীল করা হবে। ইতোমধ্যে শহিদুজ্জামান সাগর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোষ্টার,ব্যানার, ফেষ্টুন ও গণসংযোাগের মধ্যদিয়ে সে আগামী উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন।