Monday, January 28, 2019

১২ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি রাজবাড়ীর ধাওয়াপারা-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল

মেহেদী হাসান :
পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় রাজবাড়ীর ধাওয়াপারা ও পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ১১ দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, দক্ষিনাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ধাওয়াপারা-নাজিগঞ্জ নৌরুট। এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ও রাজশাহীর কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। পারাপার করা হয় যাত্রীবাহি বাস, এ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন। কিন্তুু নাব্য সংকটের কারনে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ বন্ধ রয়েছে ঘাটটি। আর এতেই বাড়ছে ভোগান্তি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ী কার্যালয়ের তথ্যমতে, ধাওয়াপারা-নাজিগঞ্জ নৌরুট তারাই তত্ত্বাবধান করে থাকেন। এই রুটে চলাচল করে ২ টি ফেরি, ২ টি লঞ্চ ও ১০ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। এই সব নৌযান দিয়ে প্রতিদিন রাজবাড়ী থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলার ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ পারাপার করা হয়।
সোমবার সকালে সরেজমিনে জৌকুড়া বাজার ও ধাওয়াপারা ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, ঘাট এলাকায় রয়েছে পার হতে আসা মানুষের ভীর। কেউ কেউ আবার তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাগ লাগেজ মাথায় করে প্রায় আধা কিলোমিটার পায়ে হেটে ট্রলারে উঠতে যাচ্ছে।
এ সময় বরিশাল সদরের বাসিন্দা মোঃ খায়রুল আলম বলেন, আমি পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি মাঝে মাঝেই এ পথে আসতে হয়, এবার একটু টোল টুপলা ( জিনিসপত্র) বেশী ভোগান্তিও অবর্ণনীয় ফেরী বন্ধ আমি জানতাম না কতক্ষন পরে পার হবো জানিনা। তবে ট্রলারে পার হতে হবে। একদিকে রাস্তা খারাপ অপরদিকে ফেরী বন্ধ বুঝতেই পারছেন আমাদের অপেক্ষার যন্ত্রনা কতটা ভযাবহ। 
অপর এক যাত্রী মোঃ কাউছার গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা তিনি বলেন, ব্যাবসার প্রয়োজনে পাবনায় যাচ্ছি, প্রায় এক ঘন্টা বসে আছি। ট্রলার কখন ছারবে আমার জানা নেই। তবে মানুষে মানুষে যখন পরিপূর্ন হবে তখনই ট্রলার ছেরে যায়।
স্থানীয় মুদি দোকানদার মোঃ আমিন মোল্লা জানান, আজ ১২ দিন যাবৎ এ ঘাটে ফেরী চলাচল বন্ধ রয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদের কেনাবেচা অর্ধেকে নেমে এসেছে যে কারনে আমাদের ধারদেনা করে সংসারের নিত্য দিনের খরচ চালাতে হচ্ছে। ঘাট যাদের ঠিক করার কথা তারা একের পর এক সময় বারাচ্ছে কবে নাগাদ এ ঘাট সচল হবে জানিনা।
পাবনা জেলার বাসিন্দা ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র মাহিন বলেন, এ নদীতে সারা বছর ধরেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেন বালু ব্যাবসায়ীরা তার পরেও নাব্যতা সংকটে পরে দিনের পর দিন ফেরী বন্ধ থাকা ও যাত্রী ভোগান্তি দুঃখজনক কতৃপক্ষের উদাসিনতাই এ ভোগান্তির মূল কারন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ীর প্রকৌশলী কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, পদ্মার পানি কমে  যাওয়ায় পল্টুনে ফেরি ভীরতে পারছে না। তাছাড়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্য সংকট তীব্র হওয়ায় ১৮ জানুয়ারী থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি জানিয়ে আমরা সাময়িক অসুবিধার জন্য গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আগামী ২ তারিখের মধ্যে ঘাটটি সচল হবে আশা করছি। আপাতত ক্রেন দিয়ে টেনে পল্টুন নীচে নামানোর চেষ্টা চলছে।