Saturday, January 19, 2019

কালুখালীর চরাঞ্চলের ৩ স্কুলে শিক্ষক সংকট : পাঠদানে ব্যহত


শহিদুল ইসলাম ঃ  সরকার অবহেলিত এলাকার মানুষের  উন্নয়নের জন্য আন্তরিক হলেও রাজবাড়ীর কালুখালীর চরাঞ্চলে তার প্রতিফলন নেই। ৩ স্কুলের  শিক্ষক সংকটের কারনে এখানকার বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলো হলো কৃষ্ণনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,হরিনাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আঃ কুদ্দুস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
হরিনাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় : হরিনাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম ধাপে জাতীয়করন হয়। বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩শ ৫০ জন। সরকারী নিয়মানুসারে বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংখ্যা থাকার কথা ১১ জন। কিন্তু কর্মস্থলে  শিক্ষক আছে মাত্র ৩ জন। কাগজে কলমে শিক্ষক সংখ্যা ৪ জন হলেও একজনকে ডেপুটেশনে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির ১১ জন শিক্ষকের কাজ করছেন মাত্র ৩ শিক্ষক।
আঃ কুদ্দুস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঃ আওয়ামীলীগ সরকারের মডেল প্রকল্প বিদ্যালয় বিহিন গ্রামে ১৫ শ  সরকারী বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে  রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম অতি আন্তরিকতার সহিত কালুখালীর চরাঞ্চলে এই প্রকল্পের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রকল্পের নিয়মানুসারে জমি দাতার নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা হবে। সে মোতাবেক জমি দাতা নাম সামনে রেখে স্কুলটির নাম করন হয় আঃ কুদ্দুস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরু থেকেই  বিদ্যায়লটি ছাত্র থাকলেও শিক্ষক শূন্য। অন্য স্কুল থেকে ডেপুটেশনের আসার ২ শিক্ষক স্কুলটি পরিচালনা করেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ শতাধিক হলেও শিক্ষক ও আবাসন সংকটের কারনে অর্ধশত শিক্ষার্থী ভর্তি সম্ভব হয়নি। ফলে বর্তমানে ওই স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫১ জন। তবে এই শিক্ষার্থীর জন্যও শিক্ষক দরকার ৫ জন। কিন্তু বিদ্যালয়টির প্রকৃত শিক্ষক সংখ্যা শূন্য। এভাবেই পরিচালিত হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের স্কুল।
কৃষ্ণনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঃ কৃষ্ণনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংথ্যা ৩ শ ৫০ জন। শিক্ষক থাকার কথা ১১ জন। প্রধান শিক্ষক একাই ১১ শিক্ষকের কাজ করেন। পাঠদান, স্কুল ফিডিং সংগ্রহ,সংরক্ষন,অফিস ফাইল সংরক্ষন,উপজেলার শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন মিটিংয়ে যোগদান সবকিছু একাই করেন প্রধান শিক্ষক । এই সংকটের পরও স্কুলটির এক শিক্ষককে ডেপুটেশনে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। ফলে  চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালটির পাঠদান।

১৯৯৬ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের  পরিকল্পনা মাথায় নিলেও মাঝপথে তা থেমে যাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম চরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সকলকে আহ্বান জানালেও তা শোনা হচ্ছে না । । ফলে স্থবির হয়ে পরছে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা।